সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল
চেলা থেকে ধোপাজান

বালু-পাথর লুটপাট বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন

  • আপলোড সময় : ০৪-০৭-২০২৫ ১২:৪৯:০০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-০৭-২০২৫ ১২:৪৯:০০ পূর্বাহ্ন
বালু-পাথর লুটপাট বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন
সুনামগঞ্জ জেলার নদনদীগুলো একসময় জীবন ও জীবিকার আধার ছিল। আজ সেগুলো হয়ে উঠেছে লুটের সা¤্রাজ্য। প্রশাসনের নাকের ডগায়, এমনকি জনতার চোখের সামনেই বালু-পাথরের অবাধ লুট চলছে। চেলা নদীর তীর কেটে দিনের আলোয় বালু তোলা কিংবা ধোপাজানের সুরমা নদীতে রাতভর ট্রাক, ভাইব্রেটার ও ‘জাদু মেশিন’-এর তা-ব - সব কিছুই যেন নৈরাজ্যের প্রদর্শনী। দোয়ারাবাজারের নরসিংপুর ইউনিয়নের সারপিনপাড়ায় চেলা নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের চিত্র শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পুরো জেলার নদীতীরবর্তী জনপদের জন্য একটি ভয়াবহ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। এই অবৈধ কর্মকা-ের ফলে নদীভাঙনের মাত্রা এতটাই তীব্র হয়েছে যে, মানুষের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমি হারিয়ে জীবিকা সংকটে পড়ছেন কৃষকরা। অথচ স্থানীয় প্রশাসন দায়সারা জবাব ছাড়া কিছুই দিচ্ছে না। অন্যদিকে, ধোপাজানের সুরমা নদীতে চলছে আরও বড় আকারে লুটপাটের মহোৎসব। সন্ধ্যা নামলেই আলোকিত হয় নদীপথ, শব্দ করে চলে অবৈধ ‘জাদু মেশিন’ বা ড্রেজার মেশিন, ট্রাকে করে নদীর তীরে জমা হয় পাহাড়সম বালু ও পাথর। পরে সেগুলো নদীপথেই পাচার হয়। আইন, অনুমোদন বা পরিবেশের কোনো তোয়াক্কা নেই। একে ব্যঙ্গ করে সাধারণ মানুষ বলছে- ‘জ্বীনপরীর লীলাখেলা’। প্রশ্ন জাগে - এই লীলাখেলা তাহলে কারা চালাচ্ছে? স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের এক শ্রেণির কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের মদদেই সক্রিয় হয়েছে এই লুটপাট সিন্ডিকেট। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, খনিজ স¤পদ উত্তোলন নীতিমালা এবং নদী ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুযায়ী নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন স¤পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ বাস্তব চিত্র বলছে, আইন যেন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। জনগণের অভিযোগ- প্রতিবাদ করলে হুমকি আসে। মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পরও নেই দৃশ্যমান অভিযান বা জবাবদিহি। অতঃপর প্রশ্ন থেকেই যায়- এ দায় কে নেবে? এই অনিয়ম ও দুর্নীতির লাগাম টানতে হবে এখনই। নয়তো সুনামগঞ্জের নদীগুলো অচিরেই হারিয়ে যাবে লোভের গহ্বরে। জনপদ রক্ষা, কৃষিজমি সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে বালু-পাথর লুটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযান, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স